মগজধোলাই
3373
1
|   Jul 29, 2017
মগজধোলাই

—‘‌‌বাবা, সেদিন যেন শব্দটা কী বললে?‌’‌

—‘‌কোনটা?‌’‌

—‘আরে ঘ দিয়ে।’‌‌

—‘‌ওহ্‌, ঘরজামাই?‌’‌

—‘‌ইয়েস ইয়েস। ঘজ্জামাই। মানে কী এটার?‌’

—‘‌‌মানে বিয়ের পরে যারা বউয়ের বাড়িতে এসে থাকে।’‌

—‘‌তুমি কী ঘরজ্জমাই?‌’‌

—‘‌না। তোর মা আমার বাড়িতে এসে থাকে।’‌

—‘‌এটা তোমার বাড়ি?‌’‌

—‘‌উমম.‌.‌.‌ ‌আমাদের বাড়িও বলতে পারিস। দলিল আমার নামে। কিন্তু থাকি একসঙ্গে।’‌

—‘‌তাহলে তুমি যেটা নও, তোমার জামাই সেরকম হবে, সেটা এক্সপেক্ট করছ কেন?‌’

—‘‌‌সে আবার কী?‌ পঁচিশ তিরিশ বছরের পরে তুই বিয়ে করে ড্যাং ড্যাং করে অন্য একটা ছেলের সঙ্গে চলে যাবি, আর আমি কি এখানে বসে আঙুল চুষব?‌ তোকে আমি ছাড়ব না। ছেলেটাকে এসে এখানে থাকতে হবে।’‌

—‘‌মা–র বাবাও কিন্তু ‌এই একই ভাবে.‌.‌.‌’‌

—‘‌থাক.‌.‌.‌ এতো উদাহরণ দিতে হবে না। শোনো, মা–র বাবা ইজ মার বাবা তোমার বাবা ইজ তোমার বাবা। কার কষ্ট নিয়ে তোমার বেশি চিন্তিত হওয়া উচিত?‌’

—‘‌তা বটে। কিন্তু হোয়াট অ্যাবাউট মা?‌’‌

—‘‌মানে?‌’‌

—‘‌মানে মা কি জামাইকে সঙ্গে নিয়ে থাকতে রাজি হবে?‌’‌

—‘‌হিসেব মতো না। কারণ আমি আর তোর মা আজ অবধি খুব কম ব্যাপারেই একমত হয়েছি।’‌

—‘‌মা–কে কীভাবে ম্যানেজ করবে?‌’‌

—‘‌ঝগড়া করব। মারামারি করব। ওয়াইফআইয়ের পাসওয়ার্ড বদলে দেবো।’‌

—‘‌এনাফ এনাফ। কিন্তু তোমার এতো আপত্তি কেন? এটা কিন্তু স্বার্থপরের মতো কথা হয়ে যাচ্ছে বাবা।‌’

—‘‌‌ওরে পাগল, আমি কি শুধু নিজের ভালটা দেখছি?‌ তোর ভালটাও তো.‌.‌.‌’

—‘‌আমার ভাল?‌ কী রকম?‌’‌

—‘‌ছেলেরা কেমন হয় জানিস?‌’‌

—‘‌ছেলেরা?‌ মানে তোমরা?‌ ওই তোমার মতোই হবে।’‌

—‘গুড ‌দ্যাটস লাইক মাই ডটার। এবার বল তো আমি কী কী করি।’

—‘‌‌আমাকে কোলে নাও। গান শোনাও। আর হ্যাঁ পরশু গিটার বাজিয়ে শুনিয়েছো। থ্যাংকস ফর দ্যাট।’‌

—‘‌ধুর সেটাতো বাবাসুলভ কাজ। তোকে বিচার করতে হবে তোর মা–র পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে।’‌

—‘‌মা–র পয়েন্ট অফ ভিউ?‌ মানে সবসময় ভুরু কুঁচকে?‌’

—‘‌ইয়েস সুইটহার্ট। ভাব, তোর মা সারাদিন ধরে আমার সম্পর্কে কী বলে?‌’‌

—‘‌উমম.‌.‌.‌ তুমি নোংরা.‌.‌.‌ আলসে.‌.‌.‌ বদলোক.‌.‌.‌ মা–কে কষ্ট দাও.‌.‌. ‌ ‌আর মনে পড়ছে না। ওহ না না লাস্ট একটা কথা।’

—‘‌কোনটা’‌—‘‌মা কথায় কথায় বলে না, বিরাটি চলে যাব।’‌‌

—‘‌তাহলে ব্যাপারটা কী খাড়াইল বলতো এমি?‌’‌

—‘‌কী?‌’‌—‘‌দাঁড়াল এই যে ছেলেরা খুব খারাপ। তারা আলসে, তারা বদলোগ। তাদের থেকে বাঁচতে গেলে মা যেমন‌ বিরাটিতে তার বাপের বাড়ি চলে যায়, তেমনি বাপরে বাড়ি ছাড়া আর কোনও সেফ শেলটার নেই।’‌

—‘‌এবাবা!‌ এভাবে তো ভেবে দেখিনি।’‌

—‘‌ভাবো এমি ভাবো। ভাল করে বুঝে নাও, এই দুনিয়ায় বাবা ছাড়া মেয়েদের কোনও সেফ শেল্টার নেই। সেটা মা–ও কিন্তু প্রকারান্তরে বলেই দিচ্ছে।’‌

—‘‌তাহলে উপায়?‌’‌

—‘‌উপায় সেই বাপের বাড়ি। আর বাপের বাড়িই যখন একমাত্র নিরাপদ জায়গা, তাহলে বরের বাড়ি ঘুরে বাপের বাড়ি আসার চেয়ে ড���ইরেক্ট বাপের বাড়ি থাকাটাই ভাল নয় কি?‌’‌

—‘‌কারেক্ট। তাহলে আমিও তাই করব।’‌

—‘‌প্রমিস?‌’‌

—‘‌প্রমিস’‌

—‘কমিট করলি কিন্তু.‌.‌.‌‌’‌

—‘‌একবার জো ম্যায়নে কমিটমেন্ট করদি, উসকে বাদ.‌.‌.‌’‌

—‘‌থাক থাক আর বাকিটা বলতে হবে না। এই না হলে আমার মেয়ে?‌.‌.‌.‌ ‌মুআহহহ।’‌

Read More

This article was posted in the below categories. Follow them to read similar posts.
LEAVE A COMMENT
Enter Your Email Address to Receive our Most Popular Blog of the Day