একটি মেয়ের গল্প : ২ : ধারাবাহিক উপন্যাস
696
|   Jul 16, 2017
একটি মেয়ের গল্প : ২ : ধারাবাহিক উপন্যাস

দরজা খুলতেই জড়িয়ে নেয় নিখিল, হাতে বেশ কয়েকটা ট্রপিকানা জাতীয় জুসের প্যাকেট “ রিয়া, রিয়া, রিয়া, জানো আজ কতোটা মিস করেছি তোমাকে সারাদিন”। রিয়ার ঠোঁটে হাসির ঝলক , “মিথ্যে মিথ্যে মিথ্যে, একটুকও মিস করনি” । “সত্যি বলছি, যাও এই পৃথিবী ছুঁয়ে বললাম” যাত্রা পালার নায়কের ভঙ্গিমায় নিখিলের ছেলেমানুষি দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারে না রিয়া, খিলখিল করে হেসে ফেলে আর নিখিল উঠে দাঁড়িয়ে ওকে আরও মিষ্টি করে জড়িয়ে নেয়। আসলেই নিখিল লাজুক স্বভাবের তাই সন্তানের খবর খুব একটা নিতেই চায় না, যদিও যত্ন আত্তিতে কোন খামতি নেই, তাই রিয়ার মনে কোনও দুঃখ নেই, আছে শুধু খুশী আর আনন্দ। 

রিয়া আর নিখিলের বিয়ে হয় আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে, সহজ ভাষায় লাভ কাম আরেঞ্জড ম্যারেজ। রিয়া তখন একটা বহুজাতিক সংস্থায় অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে কর্মরতা, নিখিল সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, শহরের বিখ্যাত একটি ফার্মে কাজ করছে প্রায় ৫ বছর ধরে। ভালোবাসা আর বিয়েটা সব সময় হয়তো সমান তালে চলে না তাই ঠিক  বিয়ের পর পরই  তাকে এমন সব পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হয়েছিল , যা  ভাবলে এখনও তার গায়ে কাটা দেয়। শ্বশুরবাড়ীর দাবী মতন বিয়ের একমাস আগেই রিসাইন করেছিল রিয়া, খুব কষ্টও হয়েছিল তার এই শখের চাকরীটা ছেড়ে দিতে,  কিন্তু নিখিলের ভালোবাসা তাকে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধেই এই কাজ করিয়েছিল, আর সে করেও ছিল হাসি মুখেই।  কিন্তু তার মাথায় বজ্রপাত হোল সেদিন যখন বিয়ের একমাসের মাথায় অফিসের ম্যানেজিং ডিরেক্টারের সাথে কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে, চাকরিটা ছেড়ে বসে নিখিল। রিয়া  জীবনে এই প্রথম বারের মতন ভয় পেল, ভবিষ্যৎ কি????? যদিও নিখিল খুবই ট্যালেন্টেড ইঞ্জিনিয়ার তবু আজকের দুনিয়ায় নতুন চাকরী খোঁজা সত্যি সত্যিই কত কঠিন তা তো কারুরই অজানা নয়, আবেগের বসে একটা গুরুতর ভুলই হয়ত করে বসেছে নিখিল কিন্তু এখন  এসব ভেবে লাভ কি, মনে মনে ভাবে রিয়া,  “ না, আমি ভাঙবো না, নিখিলের শক্তি হয়ে উঠবো, নিখিল হারতে পারে না” নিখিলকে আরও জোরে আঁকড়ে ধরে রিয়া, জুটে যায় নিখিলের সাপোর্ট সিস্টেম হওয়ার গভীর সাধনায় । রাতে শাশুড়িমা, ছেলেকে আদর করে খাওয়াতে খাওয়াতে বললেন, “ খুব ভালো হোল, এইবার আমার চোখের সামনে থাকবে , সারাদিন, সারারাত”, শ্বশুর মশাই  কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন, শাশুড়িমা তার আগেই চোখের ইশারায় উনাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “  আমি বেঁচে থাকতে তোমাকে আর কিচ্ছুটি করতে হবে না বাবা, কেউ যদি তোমাকে সাহায্য না করে তবে আমি ঝিয়ের কাজ করেও না হয় তোমাকে খাওয়াবো” । রিয়া বুঝে এটাই মাতৃস্নেহ,  মা ছেলের  সম্পর্কের এই গভীরতা দেখে ভালো লাগে তার, একটি মিষ্টি সুর ছুঁয়ে যায় বুকের ভিতর।

কিন্তু তার জন্যে মস্ত বড় সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছিল পরদিন দুপুরবেলা, যখন সব্জি কাটার সময় শাশুড়িমা স্পষ্ট ভাষায় বেমালুম শুনিয়ে দিলেন, সেই স্ত্রী কতোটা সর্বনাশী আর অপয়া যার পা বাড়ীতে পড়া মাত্র স্বামীর চাকরী চলে যায়। সে বলতে চেয়েছিল চাকরি তো যায়নি, সে তো নিজের ইচ্ছেয় ছেড়েছে কিন্তু বলা আর হয়ে ওঠেনা। আসলেই রিয়া মুখচোরা গোছের, কাজের সময় সে দশ হাতে কাজ করতে জানে কিন্তু মুখ দিয়ে রা করতে জানে না, আর জানবেই বা কি করে ছোট্ট পরিবারের এক মাত্র সন্তান সে, কেউ শক্ত ভাবে একটা কথাও বলেনি কোন দিন। খুব কান্না পায় তার, বাথরুমে ঢুঁকে শাওয়ার চালিয়ে দেয়, তার সদ্য পাওয়া আঘাতটুকু সে ভাসিয়ে দেয় চোখের জলে, চানের জলে, তারপর ঠোঁটে এক মিষ্টি  হাসি পরে সে লেগে যায় ঘরকন্নায়।    (  ধারাবাহিক, চলবে)   

 

Read More

This article was posted in the below categories. Follow them to read similar posts.
LEAVE A COMMENT
Enter Your Email Address to Receive our Most Popular Blog of the Day